শুরু করুন অনলাইনে ইনকাম। অনলাইন আয়ের সহজ উপায় সমূহ

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সকলের ইচ্ছে করে অনলাইন ইনকাম করার । কিন্তু সঠিক গাইডলাইন এর অভাবে সবার ইচ্ছে গুলো শুধু স্বপ্নই রয়ে যায়।
অনলাইন ইনকাম কথাটি শুনলেই হয়তো অনেকের মনে এক ধরনের উচ্ছ্বাস, ফিলিংস কাজ করে। তবে অনলাইনে ইনকাম করা এতটা সহজ নয় যতটা কল্পনায় জল্পনায় আপনি ভেবে থাকেন।

অনলাইনে ইনকামের জন্য আপনাকে কঠোর ধৈর্যশীল এবং পাশাপাশি অধিক পরিশ্রম করতে হবে। অনলাইনে ইনকাম করতে হলে আপনাকে একটি সুনির্দিষ্ট পথ অবলম্বন করতে হবে।

ধরুন আপনি চিন্তা করলেন স্বল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা শুরু করবেন। কিন্তু টাকার ব্যবস্থা হয়ে যাওয়ার পর আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কি ব্যবসা শুরু করবেন। এক্ষেত্রে যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় আপনি কিসের ব্যবসা করবেন? আপনার উত্তর যা হয় তাই দিয়ে শুরু করুন স্বল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা।

  1. এভাবে বলা যায় আপনার কোন কাজ বেশি পছন্দনীয়?
  2. আপনি কোন কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
  3. কোন কাজের উপর আপনার ভালো আগ্রহ এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে?

আপনার উত্তর যা হয় ঠিক সেই কাজটি আপনার করা উচিত যদি তা ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি থাকে।

ঠিক একই ভাবে অনলাইনে আয় করতে হলে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কিভাবে অনলাইনে আয় শুরু করবেন।

আমি বলব আপনি প্রাথমিক পর্যায়ে একটি সুনির্দিষ্ট নিস বা উদ্দেশ্য নিয়ে অনলাইনে আয় শুরু করুন।
কেননা আপনি নতুন অবস্থায় যেমন একই সাথে কয়েকটি ব্যবসা চালাতে পারবেন না ঠিক তেমনি অনলাইনে বিভিন্ন উপায়ে আয় করার পদ্ধতি থাকলেও কেবলমাত্র একটি উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু করুন আপনার পথ চলা।

নয়তো অনলাইনে আয় করার কথা শুধু চিন্তাই রয়ে যাবে কিন্তু অনলাইনে আয় করা আর হবে না।

আপনি চাইলে অনলাইনের সকল উপায়ে আয় করতে পারেন তবে! এক্ষেত্রে আপনার অনলাইন আয় সম্পর্কে অধিক ধারণা থাকতে হবে।

এখন আমি শেয়ার করব আপনি কিভাবে অনলাইনে ইনকাম শুরু করবেন বা বিভিন্ন উপায়ে অনলাইন হতে টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

ব্লগিং করে অনলাইনে আয় | বেস্ট ওয়েব স্কুল

অনেকে শখ করে অনেক বিষয়ে লেখালেখি করেন। কিন্তু শখের বিষয়টি যদি পেশাগত কাজে লাগাতে পারেন, তবে অনলাইনে আয় করতে পারবেন। ব্লগিং করেও আয় করার সুযোগ আছে।পৃথিবীর মধ্যে অনলাইনে আয় করার সবথেকে সহজ উপায় হচ্ছে ব্লগিং।

আপনি যেরকম ফেসবুকে অথবা টুইটারে অথবা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করেন, ঠিক তেমনি ভাবে একটি ওয়েবসাইটে লেখালেখি করে আয় করতে পারেন। দুই ভাবে ব্লগ থেকে আয় করা যায়।

  1. ফ্রি সার্ভিস ব্লগ সাইট
  2. নিজের তৈরি ব্লগ সাইট।
  • বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনি যদি এখনো না জেনে থাকেন ব্লগিং কি? ব্লগিং কাকে বলে? কিভাবে ব্লগিং করতে হয়? তাহলে এই পোস্টটি পড়ে আসতে পারেন

ফ্রি সার্ভিস ব্লগ সাইট

ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগস্পট প্ল্যাটফর্মে বিনা মূল্যে ব্লগ শুরু করতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই অধিক পরিশ্রম করতে হবে কেননা এই প্লাটফর্ম গুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেয়।

আর বিনামূল্যে ওয়েবসাইট এবং বিনামূল্যে ব্লগ এর ক্ষেত্রে গুগল এডসেন্স অথবা অন্য কোন স্পন্সর সহজে দিতে চায়না।উল্লেখ্য যে শুধুমাত্র ব্লগস্পট অথবা ব্লগার এই গুগল এডসেন্স দিয়ে থাকে তবুও সেটি অনেক কল্পনা জল্পনার পরে।

আমি রিকুমেন্ট করি অবশ্যই আপনারা ফ্রি ব্লগিং বাদ দিয়ে নিজের একটি কাস্টম ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে আপনারা আপনার ওয়েবসাইট অথবা ব্লগ শুরু করতে পারেন।

কেননা ফ্রি জিনিস কখনোই খুব ভাল হয় না। এর জন্য আপনাকে কাস্টম ডোমেইন এবং একটি হোস্টিং প্যানেল কিনতে হবে।

  • বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি আপনার মনে প্রশ্ন থাকে কাস্টম ডোমেইন কি? এবং হোস্টিং কি? তাহলে এই পোস্টটি পড়ে আসতে পারেন

নিজের তৈরি ব্লগ সাইট

আপনারা চাইলে ওয়াডপ্রেস অথবা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট হতে পারে আপনার অর্থ ইনকামের সফল চাবিকাঠি। এর জন্য আপনাকে প্রাথমিক পর্যায়ের দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ করতে হবে।

এই ওয়েবসাইট দিয়ে আপনি ই-কমার্স করতে পারেন এবং ব্লগিং করতে পারেন অথবা নিউজপেপারে সাইট বানাতে পারেন অথবা বাণিজ্যিক কোন ধরনের ওয়েবসাইট বানাতে পারেন। এবং অ্যাফিলিয়েট এর মাধ্যমেও এখান থেকে আর্নিং করতে পারবেন।

  • বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনি যদি এখনো না শিখে থাকেন কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তাহলে এই পোস্টটি পড়ে আসতে পারেন

ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইনে আয় | বেস্ট ওয়েব স্কুল

অনলাইনে আয় করার যতগুলো মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় এবং অধিক পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা যায় এমন একটি কাজ সেটি হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং অথবা আউটসোর্সিং।

যদিও ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এর মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে তবুও আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং-এ দুইটি বিষয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে।

ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং এর আওতাভুক্ত যেগুলো কাজ রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে অধিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং অথবা আউটসোর্সিং এখন পুরো পৃথিবী জুড়ে সাড়া ফেলেছে।

ফ্রিল্যান্সিং কে কেন্দ্র করে এখন দেশ-বিদেশের নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্রিল্যান্সারদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদেরকে কাজ দেয়ার পাশাপাশি মোটা অংকের অর্থনৈতিক এনাম সবার হাতে হাতে পৌঁছে দিচ্ছে।

আমাদের দেশে এমন ফ্রিল্যান্সার রয়েছে যারা নিজেরা কাজ করে এবং অন্যদের কাজ পেতেসহায়তা করেও নিজেরা আয় করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

এই পেশায় আপনি জড়িত হতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক কোর্স সম্পন্ন করে তারপর মাঠে নামতে হবে।তবে কাজে নামার আগে কোন কাজটি মার্কেটপ্লেসে বেশি জনপ্রিয় বা বাংলাদেশীদের জন্য করা সম্ভব, তা ভালোভাবে জেনে নেয়া সেইসাথে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য জনপ্রিয় কাজ গুলো কি? কি? তা জেনে নেয়া উচিত।

  • বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনি যদি জানতে চান ফ্রিল্যান্সিং কি এবং কিভাবে একজন ফ্রিল্যান্সার ফ্রিল্যান্সিং করে আউট সোর্সিং করে অনলাইনে অর্থ উপার্জন করে তাহলে এই পোস্টটি পড়ে আসতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে আয়

এই পদ্ধতিতে আয়ের ক্ষেত্রেও নিজের ওয়েবপেজ বা ব্লগ প্রয়োজন। যখন ওয়েবসাইট বা ব্লগ চালু হবে, তখন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লিংক তাতে যুক্ত করতে পারবেন।

যখন আপনার সাইট থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা কোনো দর্শক কিনবেন, তখনই আপনার আয় আসতে শুরু করবে।

অনুবাদ

ইংরেজির পাশাপাশি অন্য কোনো ভাষা ভালোভাবে জানা থাকলে সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন। বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখানে বিভিন্ন ডকুমেন্ট অনুবাদ করে আয় করতে পারেন।

যাঁদের স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, আরবি, জার্মানসহ অন্যান্য ভাষা জানা আছে এবং এগুলো থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ বা ইংরেজি থেকে এসব ভাষায় অনুবাদ করতে পারলে ভালো আয় করতে পারবেন।

অনেক সময় কাজদাতারা নিজে সময়ের অভাবে অনুবাদের কাজ ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করিয়ে নেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে এ ধরনের কাজ পাবেন।

অনলাইন টিউটর

কোনো বিষয়ে যদি আপনার পারদর্শিতা থাকে, তবে অনলাইনে সে বিষয়ে শিক্ষা দিতে পারেন। অনলাইন টিউটরদের এখন চাহিদা বাড়ছে। সব বয়সী শিক্ষার্থীদের আপনি শিক্ষা দিতে পারবেন।

এখানে অন্য দেশের শিক্ষার্থীদেরও পড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অনলাইন টিউশনির সুযোগ রয়েছে। সেখানে সুবিধামতো সময়ে পড়াতে পারেন ছাত্র।

এসব সাইটে নিজের দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হয়। একবার নির্বাচিত হয়ে গেলে ওয়েবিনার পরিচালক হিসেবে অনলাইন সেশন পরিচালনা করতে পারেন। দক্ষতা বাড়লে এ ক্ষেত্র থেকে অনেক আয় করার সুযোগ আছে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম

ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এখন আর শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নয়। এগুলো কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া পরিকল্পকদের প্রচুর অর্থ দেওয়া হয় তাদের ব্র্যান্ডের প্রচার করার জন্য। অনলাইনে গ্রাহক টানা, প্রচার করার জন্য অবশ্য সৃজনশীলতা দরকার।

বিভিন্ন পোস্ট তৈরি, ভিডিওর মাধ্যমে ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশ করে তা ভাইরাল করতে পারলে ভালো অর্থ আসে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যান-ফলোয়ার তৈরিসহ তাঁদের ধরে রাখতে প্রচুর ধৈর্য ও প্রাসঙ্গিক বিষয় হওয়া জরুরি।

ওয়েব ডিজাইন

এখনকার অনলাইনের কাজের ক্ষেত্রে ওয়েব ডিজাইনের চাহিদা ব্যাপক। কোনো প্রজেক্টে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজে আয় করা যায়। সব ব্যবসায়ী প্রযুক্তিপ্রেমী নন।

নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরিতে তাঁদের ওয়েব ডিজাইনারের দরকার পড়ে। যাঁরা ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে চান নিজেদের ওয়েবসাইট খুলে সেখান থেকেই ছোট ব্যবসা দাঁড় করাতে পারেন।

ওয়েবসাইট তৈরিতে এখন কোডিং আর ওয়েব ডিজাইন দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনা ও হালনাগাদের জন্যও ওয়েব ডিজাইনারকে দরকার পড়ে। ফলে ডিজাইনারকে বসে থাকতে হয় না। ক্লায়েন্ট ও কাজের ওপর ভিত্তি করে ওয়েব ডিজাইনারের আয় বাড়তে থাকে।

কনটেন্ট রাইটিং

অনলাইনে আয় করার সহজ ও সম্ভাবনাময় উপায় হলো লেখালেখি, যাকে আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট রাইটিং বা কনটেন্ট ডেভেলপিং বলা হয়।

যাঁরা লেখালেখিতে ভালো এবং একাধিক ভাষায় সাবলীল লিখতে পারেন, তাঁদের কাজের জন্য বসে থাকতে হয় না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে কাজ করে বা লিখে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। আর্টিকেল লেখার মানের ওপর ভিত্তি করে আয় আসে। কাজদাতা নির্দিষ্ট নীতি মেনে লেখার জন্য বলতে পারেন।

নির্দিষ্ট বিষয় বা নিশ ধরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারলে আয়ের ধারা বেড়ে যায়। যারা ইংরেজিতে ভালো তারাই লেখালেখি করে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন।

কনটেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন কাজের জন্য কনটেন্ট লিখে থাকেন। ওয়েব কনটেন্ট ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য রিসোর্স বই, ব্রোশিউর, লিফলেট বা অন্যান্য প্রচারণার কাজে কনটেন্ট ডেভেলপ করা হয়ে থাকে।

একজন কনটেন্ট ডেভেলপারের অনেক কাজের ক্ষেত্র রয়েছে। ক্ষেত্রগুলো হলো- কপিরাইটিং, বস্নগ লেখা, ওয়েব কনটেন্ট, প্রেস রিলিজ রাইটিং, ট্রান্সলেশন, ট্রান্সক্রিপশন, সামারাইজেশন, রিজিউম রাইটিং, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি।

লেখার বিষয়টি নির্ভর করে লেখকের দক্ষতা, রুচি, সহযোগিতা সর্বোপরি যে সাইট বা বিষয়ের জন্য লেখা হচ্ছে তার চাহিদার ওপর। তবে বিষয়বস্তু যা-ই হোক না কেনো, একজন ওয়েব কনটেন্ট রাইটারকে কোনো নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করে ডাটাবেজ তৈরি করতে হয়।

উন্নত বিশ্বে একজন কনটেন্ট রাইটারকে সাংবাদিক বা গবেষক হিসেবেও অভিহিত করা হয়। বিষয়বস্তু অনুযায়ী ঠিক করে নিতে হয় লাইন অব অ্যাকশন। লেখা অবশ্যই প্রাঞ্জল ও গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে।

রাইটার হিসেবে মনে রাখতে হবে যারা ওয়েবসাইটে আপনার লেখা পড়বেন, তারা মিনিটপ্রতি বা ঘণ্টাপ্রতি নির্দিষ্ট পয়সা খরচ করে পড়বেন।

সুতরাং তারা চাইবেন সবচেয়ে কম সময়ে প্রয়োজনীয় জিনিস পড়তে। তাই তথ্যনির্ভর, সংক্ষিপ্ত বিষয়ভিত্তিক লেখাই আপনাকে লিখতে হবে। কনটেন্ট লেখার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অন্যের লেখা কপি করা যাবে না।

এতে লেখক হিসেবে আপনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বাড়বে, তেমনি উপার্জনের পথও প্রশস্ত হবে। কনটেন্ট রাইটার হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে ভালো হতে হবে।

প্রয়োজন শুদ্ধ বানান। আমেরিকান স্পেলিং শুদ্ধভাবে জানতে হবে। গ্রামার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ও আমেরিকান গ্রামার সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা ভালো।

আর ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য প্রয়োজনীয় যে বিষয়গুলো রয়েছে, যেমন ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ সমন্বয়, কাভার লেটার লেখা, আপডেটেড থাকা এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশে এমন অনেক ফ্রিল্যান্স লেখক আছেন যারা ঘণ্টায় ১০ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকেন। এছাড়া দেশী-বিদেশী ইন্টারনেট মার্কেটিং অথবা কনটেন্ট মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানেও আপনি ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বেতনে চাকরি করতে পারেন। তাই কনটেন্ট রাইটার হিসেবেও ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

ইউটিউব

যাঁরা ব্লগ লিখে আয় করতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁরা ক্যামেরার সাহায্য নিয়ে ভিডিও থেকে আয় করতে পারেন। এ জন্য অবশ্য সৃজনশীল আর ভালো সম্পাদনা জানতে হবে। নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে ভিডিও আপলোড করে সেখান থেকে আয় করতে পারেন।

আপনার চ্যানেল কোন ক্যাটাগরির এবং তাতে কোন ধরনের ভিডিও রাখবেন, তা আগেই ঠিক করে রাখুন। যে বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বেশি, সেই বিষয়ে ভিডিও না রাখলে মানুষ তা দেখবে না।

ভিডিও না দেখলে আয় হবে না। বিষয়টি অনেকটাই ব্লগের মতো। তবে এ ক্ষেত্রে কনটেন্ট হচ্ছে ভিডিও। চ্যানেলের সাবসক্রাইবার ও ভিডিও দেখার সময় বাড়লে আয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। প্রতি হাজার ভিউয়ের হিসাবে গুগল থেকে অর্থ পাবেন।

পিটিসি

অনেক ওয়েবসাইট আছে, যাতে রাখা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে আপনাকে অর্থ দেওয়া হবে। এ ধরনের সাইটকে পিটিসি সাইট বলে। প্রকল্প শুরুর আগে নিবন্ধন করতে হয়।

তবে মনে রাখতে হবে পিটিসি সাইটগুলো বেশির ভাগ ভুয়া হয়। তাই কাজের আগে নিশ্চিত হতে হবে সেটি প্রকৃত সাইট কি না। অনেক সময় বন্ধুতে রেফারেন্স দিয়ে আয় করতে পারেন।

ডেটা এন্ট্রি

অনলাইনে সহজ কাজগুলোর একটি হচ্ছে ডেটা এন্ট্রি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য আয় খুব কম। তবে এ ধরনের কাজ অটোমেশনের কারণে এখন খুব কম পাওয়া যায়।

যাঁদের কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও দ্রুতগতির টাইপিং দক্ষতা আছে, তাঁরা এ ধরনের কাজ করতে পারবেন। অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সিং সাইটে এ ধরনের কাজ রয়েছে। তবে যাঁদের কোনো কাজে দক্ষতা থাকে, তাঁরা সহজে কাজ পান এবং দ্রুত আয় বাড়াতে পারেন।

এস,ই,ও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন)

ইন্টারনেট বাণিজ্যের এ যুগে ওয়েবসাইট ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান তো কল্পনাই করা যায় না। আবার ওয়েবসাইট থাকলেই কিন্তু এখন চলে না। এটি সর্বত্র পৌঁছে দিতে ব্যাপক মার্কেটিংয়েরও প্রয়োজন হয়।

ওয়েবসাইটকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায়। ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম দিকে নিয়ে আসার যে কৌশল সেগুলোকেই মূলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলা হয়।

দিন দিন বিশ্বব্যাপী যত ওয়েবসাইট বাড়ছে, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজের ক্ষেত্রও অনেক বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতেও তাই দিন দিন বাড়ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজ।

আর এ হিসেবে ফ্রিল্যান্সার হতে চাওয়া তরুণ-তরুণীদের অন্যতম পছন্দ হতে পারে এ ক্ষেত্রটি। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোর তথ্যানুসারে, একজন দক্ষ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার মাসে ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

প্রয়োজন সঠিক নির্দেশনা, প্রচেষ্টা, ধৈর্য এবং সময়। বর্তমানে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও এ পেশায় বেশ ভালো করছেন।

জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কিত বস্নগ এসইওমজের ডাটা অনুযায়ী প্রতি ১০০ জন ফ্রিল্যান্স সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজারদের মধ্যে ২৩ জনই নারী।

ওডেস্কের বিলিয়ন ডলারের এ মার্কেটপ্লেসের ১২ শতাংশ এখন আমাদের দখলে। আর এর মধ্যেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের (এসইও) কাজ সবচেয়ে বেশি করা হয়। শুধু ওডেস্ক নয়, অন্যান্য মার্কেটপ্লেসেও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজে বাংলাদেশীদের পদচারণা বাড়ছে।

গত বছর ফ্রিল্যান্সার ডটকম আয়োজিত কনটেন্ট রাইটিং ও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) ২০১২ প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের ফ্রিল্যান্সারদের হারিয়ে বাংলাদেশের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ইন্টারনেট মার্কেটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডেভসটিম লিমিটেড প্রথম হয়।

আর এজন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বিশ্বে বাংলাদেশ এখন খুব পরিচিত একটি নাম।আপনি যদি ইংরেজি মোটামুটি জানেন, তবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শেখা শুরু করে দিতে পারেন।

এসইওর এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো খুব কঠিন কিছু নয়। দু’তিন মাসের ট্রেনিং নিয়েই এ ধরনের কাজ করা যায়। কোথায় পাবেন প্রশিক্ষণ। ইন্টারনেট থেকেই শিখতে পারেন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের খুঁটিনাটি। প্রয়োজনে নিতে পারেন প্রশিক্ষণ। ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন চাহিদাসম্পন্ন এ কাজে।

প্রিয় পাঠক : একটি পোষ্ট লিখতে আমাদের অনেক পরিশ্রম এবং রিসার্চ করে লিখতে হয়। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমরা সবসময় চেষ্টা করি যেকোনো বিষয়ে সহজভাবে লেখার যাতে আপনাদের খুব সহজে বুঝে আসে।

তারপরেও যদি আপনাদের কথা বোঝার ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে আপনার মতামত প্রকাশ করুন আমরা আপনাকে সহযোগিতা করব। 

আর অবশ্যই পোস্টটিতে একটি লাইক দিয়ে শেয়ার করে দিন যাতে করে আমরা পরবর্তীতে আরো নতুন কিছু আপডেট দিয়ে আপনাদের পাশে থাকতে পারি

 

 

Leave a Comment