ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আপনার যা কিছু জানা দরকার

আপনি অনলাইনে ক্যারিয়ার ডেভলপ করতে চান মানে আপনি নতুন হিসেবে ফ্রিল্যান্স ইন্ডাস্ট্রিতে আপনি জয়েন করতে চান।

কিন্তু বুঝতে পারছেন না ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং ইন্ডাস্ট্রিতে কিভাবে কাজ করে এবং কিভাবে আপনার দৈনন্দিন জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য একটু সময় বের করে ফ্রিল্যান্সিং ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার গঠন করবেন।

হ্যালো বন্ধুরা! আমি আশরাফুল ইসলাম, একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডেভলপার ফ্রিল্যান্সার, এবং কন্টেন্ট রাইটার।ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আমি এখন আপনার সাথে কিছু কথা বলবো এই বিষয়গুলো আপনাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য।

আপনি যদি আমাদের ওয়েবসাইটে নতুন হয়ে থাকেন তালে রিকুমেন্ট করছি আমার সাথে এই ব্লগের সাথে কানেক্টেড থাকার জন্য। কারন আমি ফ্রীলান্সিং, অনলাইন বিজনেস এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিষয়ে আপনাকে শেখানোর জন্য সহযোগিতা করব।

তাহলে চলুন, ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে এখন আমি আপনার সাথে কথা বলি একটু আগে বলা বিষয়গুলো ক্লিয়ার করে দেয়ার জন্য।

শুরুতে আপনাকে বলবো What i’s freelancing? ফ্রিল্যান্সিং আসলে জিনিসটা কি?

ধরুন, আমরা যদি কোন কোম্পানিতে জব করতে চাই তাহলে আমরা কি করি! ওই কম্পানির সার্কুলার দিলে তখন এপ্লাই করি এবং চাকুরী হয়ে গেলে সে কোম্পানিতে নির্দিষ্ট একটি দায়িত্ব পালন করে থাকি।
এবং পার মান্থ স্যালারি জেনারেট হয় সে কাজের বিনিময়ে।

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে সে ধরনের একটি জব। অনলাইনে বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন মানুষদেরকে হায়ার করে থাকে সে কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন কাজ করে দেয়ার জন্য।

যেমন যখন কোন কোম্পানি লঞ্চ হয়ে তখন নতুন করে তাদের লোগো ডিজাইন দরকার, ঠিক সেজন্য গ্রাফিক ডিজাইনারদের ভারা করে টাকার বিনিময়ে তা করিয়ে নেয়। আবার একটা কোম্পানির ওয়েবসাইট প্রয়োজন একজন ওয়েব ডেভলপার হায়ার করে অনলাইনে সে কোম্পানি তাদের জন্য ওয়েবসাইট তৈরী করে নেয়।

অর্থাৎ, আপনি অনলাইনে আপনার যে দক্ষতা জানা আছে যে বিষয়টা আপনি জানেন অথবা আপনি ভবিষ্যতে শিখে নিবেন সেই দক্ষতা দ্বারা আপনি বিভিন্ন কোম্পানিতে সহযোগিতা করবেন যার বিনিময় ঐ কোম্পানি আপনাকে পেমেন্ট করবে।

তবে নরমালি আমরা যে জব গুলো দেখি সে জবের সাথে ফ্রীলান্সিং জব এর মধ্যে ডিফারেন্স আছে।

আরও সেটা হচ্ছে, আমরা যদি লোক্যালি আমাদের বাংলাদেশে কোন কোম্পানিতে জব করি, তাহলে সেটা আমরা ফিক্সড জব করি। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে পরিশ্রম করার পর মাসের শেষে গিয়ে আমরা বেতন পাই।

কিন্তু ফ্রিল্যান্সাররা অনলাইনের কোন কোম্পানির জন্য ফিক্স জব করে না। একটা নির্দিষ্ট টাইম অনুযায়ী তারা পুরো মাস ধরে কাজ করেনা। তারা কাজ একাধিক কোম্পানির কাজ করে এবং একাধিক কোম্পানির সাথে কাজ করার জন্য তারা প্রতিমাসে একাধিকবার পেমেন্ট পেয়ে থাকে।

যেমন ধরেন ওয়েব ডেভলপার ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে এক মাসে দশটা কম্পানির জন্য দশটা ওয়েবসাইট তৈরি করল ,তাহলে সে দশবার কিন্তু পেমেন্ট পাবেন। সেটা যত টাকাই হোক পাঁচশত করে হলে 5000 ডলার 100 ডলার করে হলে 1000 ডলার।

ঠিক একইভাবে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার যে লোগো ডিজাইন করতে পারে সেও যদি এক মাসে দশটা কোম্পানির জন্য দশটা লোগো ডিজাইন করে দেয় তাহলে সে দশবার আর্নিং করতে পারবে।

কিন্তি সাধারণভাবে আমরা যদি কোন কোম্পানিতে যোগদান করি তাহলে পুরো মাস শেষে আমরা মাত্র একবার আর্নিং করতে পারি।
যার জন্য ফ্রিল্যান্সিং পেষায় ফ্রিল্যান্সারদের আর্নিং সাধারণ জব এর থেকে অনেকাংশে বেশি হয়ে থাকে।

পেমেন্টগুলো যেহেতু ডলারে হয়ে তাই আর্নিং পরিমাণ বেশি হয়। আমি সাধারণ চাকরিজীবী এবং ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে পার্থক্য করছি না আপনাকে বোঝানোর জন্য আমি তো একটা সাধারন এক্সাম্পল দিলাম।

আপনি যদি অলরেডি কোন কাজ পেরে থাকেন যেমন, আমি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং পারি আমি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারি, যেকোন কোম্পানির ওয়েবসাইট তৈরি করে দিতে পারি ” আপনার জন্য একটি ওয়েবসাইট লাগবে? আপনি আমার কাছে তৈরি করে নিতে পারেন। এই যে অনলাইনে আপনি আমাকে দিয়ে আপনার কোম্পানীর জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিচ্ছেন এটাই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

আবার আপনিও ফ্রিল্যান্সার হতে চান তাহলে, আপনার মধ্যে কোন দক্ষতা আছে?
যদি কোন স্কিল বলা দক্ষতা না থাকে, তাহলে যে কোন একটি বিষয়ে আপনি নিজেকে দক্ষ করে নিতে পারলেই সে বিষয়টা দ্বরাই আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। এবং অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে fiver.com, freelancer.com, upwork.com এই মার্কেটপ্লেস গুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির সহযোগিতা করতে পারবেন এবং তার বিনিময় ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

যেমনঃ আপনি যদি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড পারেন আপনি যদি মাইক্রোসফট এক্সেল পারেন এগুলো দিয়েও আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। যেকোনো কাজ দ্বারা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সাররা মূলত কন্ট্রাক্টর। তারা যেকোনো কাজ কন্ট্রাক্ট নিয়ে করেন। আপনি যেরকম কোন একটি অফিসে একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করে ডিউটি করার পর মাসের শেষে টাকা পান ঠিক তার উল্টো দিক হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

প্রত্যেকটি ফ্রিল্যান্সার প্রত্যেকটি প্রোজেক্টের জন্য আলাদা আলাদা রেট নিয়ে থাকে।
তারা কোনো নির্দিষ্ট কম্পানির কাজ করে না। যখন যে বায়ার বা কোম্পানির কাজ পায় তখন সেই বায়ার বা কোম্পানির কাজ অনুযায়ী প্রত্যেকটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা প্রেমেন্ট নিয়ে থাকে।

এক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সারদের স্বাধীনতা অপরিসীম। তারা চাইলে দিনে এক ঘন্টা কাজ করতে পারে, আবার 24 ঘন্টাই করতে পারে এটা ফ্রিল্যান্সারদের অভিরুচি।

বেশি আর্নিং এর পাশাপাশি আবার কিছুটা ইনসিকিউরিটি কাছে যদি আপনার কাছে কোন ক্লাইন্ট না থাকে আপনি যদি কোনো ক্লাইন্ট না পান তাহলে আপনার ইনকাম না হওয়ার চান্স আছে।

কিন্তু আপনি যদি কোন বিষয় খুব ভাল ভাবে স্কিল ডেভলপ করে নিতে পারেন তাহলে বেকার বসে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

তাই ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে যে কোনো একটি বিষয়ে আপনাকে পারদর্শী হয়ে নিতে হবে। তারপর আপনি যেকোন মার্কেটপ্লেসে জয়েন করার মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি কে সহযোগিতা করার মাধ্যমে আপনার উজ্জল ক্যারিয়ার ডেভলপ করতে পারেন।

এটাতো গেল ফ্রীলান্সিং কিন্তু এছাড়াও আরো বিভিন্ন উপায়ে আপনার ক্যারিয়ার ডেভলপ করতে পারেন।

যার মধ্যে ইউটিউবিং হচ্ছে একটা।
ইউটিউব চ্যানেল শুরু করে সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করতে পারেন।
ইউটিউব থেকে আপনি বিভিন্নভাবে আপনার ক্যারিয়ার ডেভলপ করতে পারেন।

ইউটিউবিং এর পাশাপাশি আরেকটি উপায় হচ্ছে ব্লগিং।
আপনার একটি ওয়েবসাইটে আপনি যে বিষয়গুলো পারেন বা যে বিষয়গুলো আপনার জানা আছে সে বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখি করবেন। একটা ওয়েবসাইটে ব্লগিং করার মাধ্যমেও বিভিন্নভাবে ক্যারিয়ার ডেভলপ করা যায়।

যেটার উপরে একটি ভিডিও পাবলিশ করে দিয়েছি অলরেডি ভিডিও ডেসক্রিপশন এ চেক করে নিয়েন।

ফ্রিল্যান্সিং ছাড়া অনলাইনে ক্যারিয়ার তৈরী করার আরেকটি জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট সেল করা। যেটাকে ই-কমার্স দেশ বলা হয়।

ইউটিউবিং বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্লগিং করা বা ই-কমার্স করার এগুলোতে আপনি আসলে ফ্রিল্যান্সিং করবেন না বরং নিজের একটি কোম্পানি আপনি তৈরী করবেন।

ইউটিউব চ্যানেল শুরু করা মানে এখানে আপনি কারও জন্য কাজ করবেন না আপনার নিজের জন্য কাজ করবেন। যেমন ধরুন আমি, মন চাইলো একটা ভিডিও আপলোড দিলাম মন চাইলোনা ভিডিও আপলোড দিলাম না। এখানে কিন্তু কারো জন্য আমাকে কাজ করতে হচ্ছে না।

ঠিক একই ভাবে আপনার ওয়েবসাইটে যখন ইচ্ছা তখন পোস্ট করতে পারবেন, কন্টেন্ট পাবলিশ করতে পারবেন। আপনার ফ্রি টাইম আছে, আপনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। ওইখানেও আপনাকে কোন ক্লাইন্ট এর জন্য কাজ করতে হবে না। আপনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে যখন মন চায় তখন কনটেন্ট পাবলিশ করবেন যখন মন চায় না তখন কোন পোস্ট বা কনটেন্ট পাবলিশ করবেন না।

সো, ই কমার্স বিজনেস হচ্ছে একটি স্বাধীন ব্যবসা। এটি আপনার নিজের ব্যবসা। আপনি মন চাইলে কোন প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারবেন মন চাইলে কোন প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন না।

অনলাইনে বিভিন্ন উপায় আছে ক্যারিয়ার ডেভলপ করার। আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে বিভিন্ন কোম্পানি কে সহযোগিতা করতে পারেন, তাদের বাচ্চাকে সমৃদ্ধি করতে।

অথবা আপনি নিজে একটা ইউটিউব চ্যানেল নিজের একটা ওয়েবসাইট লঞ্চ করে আপনি একটা ক্যারিয়ার ডেভলপ করতে পারেন।

যার কাছে যেটা ভালো লাগে। আমি ফ্রিল্যান্সিংও করছি, ইউটিউবিং করছি আবার ব্লগিং করছি। আমার আরো কয়েকটা ফ্রেন্ড আছে ওদেরকে নিয়েও আমি কাজ করছি। আপনার যেটা ভালো লাগে সেটা নিয়ে করবেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর পাশাপাশি অন্যান্য উপায়গুলো বলে দিলাম যেন আপনি বুঝতে পারেন যে আপনার জন্য কোনটা বেস্ট হয়।

এখন আপনাকে বলব আপনি কিভাবে একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠতে পারেন।
একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে ওঠার জন্য সবার প্রথমে যে বিষয়টি আপনাকে লক্ষ্য করতে হবে সেটা হচ্ছে যে কোন একটি বিষয়ের উপরে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে। যেমন ধরুন আমি ওয়েব ডেভলপার, কম্পিউটার, প্রোগ্রামিং, করি। এই বিষয়ে আমি নিজেকে দক্ষ করে তুলেছি আবার ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করার জন্য ভিডিও এডিটিং তারপরও আরো কিছু লাগে ভিডিও তৈরি করার জন্য এগুলো করতে পারি।

এখন অনলাইনে এত এত ক্যাটাগরি রয়েছে সব ক্যাটাগরি গেল নিয়ে আপনি কাজ করতে পারবেন না। প্রথমাবস্থায় যেকোনো একটি বিষয় পছন্দ করুন যে কোন বিষয়ে আপনি সময় দিতে পারবেন কোন বিষয়ে ভালো কিছু করতে পারবেন। আপনি যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চান সেই বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে প্রথমত কাজ শিখুন তারপর বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে এসে জাস্টিফাই করুন।

অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য যত ধরনের ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস আছে তার সবকটি আপনি ভিজিট করুন। তাদের সকল জব ক্যাটাগরি গুলো অনুসরন করুন আর নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন যে আপনি কোন কাজে পারদর্শী হতে চান। যে কাজে পারদর্শী হতে চান যে কাজটি দ্বারা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে চান সেই কাজটি প্রথমে মনোযোগ দিয়ে শিখুন।

এখানে একটা প্রশ্ন আছে প্রায় সময় আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে যে,

ভাইয়া আমি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স কোথায় থেকে শিখতে পারি?
কোথায় গেলে ভালোভাবে শেখানো হয়?

আসলে আমি আমার পার্সোনাল অভিজ্ঞতা থেকে যেটা দেখেছি যারা অনলাইনে খুব ভালো সাকসেসফুলি কাজ করছে তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আর্টিকেল পড়ে পড়ে শিখেছে। ইউটিউবে ভিডিও দেখে দেখে শিখে এছাড়াও অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কোর্স পাওয়া যায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যদিও বিষয়গুলো বেশিরভাগ ইংরেজিতে।

এছাড়াও বাংলাদেশও এখন অনেক অনেক নেটওয়ার্ক বিভিন্ন বিষয়ের উপরে অনলাইন কোর্স তৈরি করছে আপনি সেখান থেকে শিখে নিতে পারেন।

এছাড়াও পাশাপাশি আপনি যদি আপনার আশেপাশে ভালো কোন কোচিং সেন্টার ভালো কোন মেন্টরের সন্ধান পান আপনি সেখান থেকে শিখে নিতে পারেন।

মূল বিষয়টা হচ্ছে আপনি যে বিষয়টা চুজ করবেন সেই বিষয়টা কত দ্রুত আপনি কত ভালোভাবে শিখে নিতে পারেন এটাই থাকবে আপনার প্রথম উদ্দেশ্য।

সেটা আপনি আপনার বাড়ির পাশের মেন্টরের কাছ থেকে শিখুন আর অনলাইনে কোর্স করে শিখুন।

আশেপাশে যত রিসোর্স আপনি পান সেটা হতে পারে বই, সেটা হতে পারে অনলাইন কোর্স, সেটা হতে পারে আপনার বাড়ির পাশে কোন কোন কোচিং সেন্টার। প্রত্যেকটা জায়গায় ট্রাই করুন এবং যতটুকু ইনফর্মেশন আপনার টপিকের উপর সাবজেক্টের উপর থেকে শেখার চেষ্টা করুন। এতে করে যে বিষয়টা সম্পর্কে আপনি শিখতে চাচ্ছেন সে বিষয়টা সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব আপনি জেনে যেতে পারবেন।

অনলাইনের উপরে এতে এত কাজ পাওয়া যায় এগুলো শেখানোর মতো বাংলাদেশে আসলে এতো টিচার বলা মেন্টর নেই।

তাই যতটুকুই আপনার হাতের কাছে আছে ততটুকু ব্যবহার করুন এবং সেটাকে ব্যবহার করে আপনি নিজের স্কিল ডেভেলপ করার চেষ্টা করুন।

আপনার নিজের পার্সোনাল ডেভলপমেন্ট এর উপরে কিছু ইনভেস্টমেন্ট করুন।
কারণ যত বেশি আপনি আপনার পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট এর উপর ইনভেস্ট করতে পারবেন এই পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট তাই একটা সময় আপনাকে বিগ ফিডব্যাক দিবে।

শুরুর দিকে হয়তো বা দেখতে পাবে না কোন রেজাল্ট কিন্তু একটা সময় গিয়ে দেখবেন আপনাদের পার্সোনাল ইনভেস্ট গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এখানে পারসনাল ইনভেস্টমেন্ট বলতে বোঝানো হয়েছে আপনার শেখার আগ্রহ এবং ইচ্ছাশক্তি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন বলব সেটি হচ্ছে, শর্টকাট রাস্তা গুলো থেকে অর্থ উপার্জন করার জন্য বিরত থাকার চেষ্টা করুন।

এই ধরুন বিভিন্ন ক্লিক, ক্যাপচারের, ভিডিও দেখা, এড ক্লিক করা ইত্যাদি।

জেনে রাখুন এগুলো কখনোই প্যাসিভ ইনকাম নয়। এগুলো কোন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে অর্থ উপার্জনের মধ্যে পড়ে না। এগুলো মূলত হচ্ছে স্পামিং। যা সম্পূর্ণ অপরাধ। অনেক কাজ আছে অনলাইনে যেগুলো স্প্যামিং সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।

আমি বলছি না যে এগুলো হতে আর্নিং করতে পারবেন না। টুকটাক হয়তো আর্নিং করতে পারবেন। আপনি যখন স্টুডেন্ট আছেন, আপনার ফ্যামিলির সাপোর্ট আছে, তখন আপনার কাছে মাসে দুই তিন হাজার টাকা ইনকাম করা অনেক বড় ব্যাপার মনে হতে পারে।

কিন্তু একটা সময় বড় হবেন আপনার ফ্যামিলি হবে আপনার অনেক খরচ বাড়বে।
তাই আপনার লক্ষ্য করা উচিত এমন একটা ক্যারিয়ারের দিকে যেখানে আমি যেন লাইফটাইম আর্নিং করতে পারেন লাইফটাইম একটা সাস্টেনিবিলিটি ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

তাই শর্টকাট উপায় গুলো থেকে প্রাথমিক অবস্থায় একটা আর্নিং জেনারেট হলেও এটা আসলে দীর্ঘদিন হয়না।
খুব দ্রুতই দেখবেন সেগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন শর্টকাট রাস্তার পেছনে আপনি দৌরাতে থাকবেন। এবং কখনোই একটা সাস্টেনিবিলিটি আসবে না আপনার ক্যারিয়ারের। তাই শর্টকাট রাস্তা গুলো ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন যতটুকু সম্ভব।

পাশাপাশি একটা সলিড স্ক্রিল আয়ত্ত করুন যেমন গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়াডপ্রেস কাস্টমাইজেশান, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ ডেভলপমেন্ট, আইওএস ডেভলপমেন্ট, ফটোগ্রাফি, ইউটিউবিং, ব্লগিং, ভিডিও এডিটিং, কনটেন্ট রাইটিং, এসইও, এগুলোর পাশাপাশি আরও অনেক টপিক আছে, সাবজেক্ট আছে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য। আপনার কাছে যেটা ভালো লাগে আপনার কাছে যেটা সহজ মনে হয় সেটিই শিখতে শুরু করুন।

সবার শেষে আমি আপনাকে একটা কথাই বলব
ইন্টারনেট আমাদের সবার জন্য একটি অপরচুনিটি। তোমার জন্য, আমার জন্য, আমাদের প্রত্যেকের জন্য এবং এখানে সত্যিই অনেক ভালমানের ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব যদি আপনি ধৈর্য ধরেন এবং কিছুটা পরিশ্রম করতে রাজি থাকেন, যে টপিক নিয়ে কাজ করবেন সেই টপিকে পড়াশোনা করার মানসিকতা থাকে।

তাহলে আপনি আজকে হোক আর কালকে অনলাইনে দারুন ক্যারিয়ার ডেভলপ করে ফেলতে পারবেন। যেটা দ্বারা আপনার লাইফটাইম স্মার্ট ক্যারিয়ার ডেভলপ করতে পারবেন। আর অনলাইনে কাজ করার সুবিধা হচ্ছে যে কোন জায়গায় আপনি এটা করতে পারবেন।

আপনাকে কোন অফিসে যেতে হবে না, জ্যামে পড়তে হবে না, বসের বকুনি খেতে হবে না একদম স্বাধীনভাবে যেকোন প্রান্ত থেকে এই কাজ করতে পারবেন। এর জন্য প্রয়োজন হবে একটি ভালো মানের কম্পিউটার এবং একটি ভালো মানের ইন্টারনেট কানেকশন।

আজকে এ পর্যন্তই। কথা হবে আগামী কোন লেখনীর মাধ্যমে।
আপনি যদি অনলাইনে ক্যারিয়ার শুরু করতে চান তবে অবশ্যই আমাদের ব্লগ অথবা আমাদের এই ওয়েবসাইটটি প্রতিদিন একবার করে হলেও ভিজিট করুন।

কারণ আমরা নিত্যনতুন সর্বোচ্চ মানের পোস্ট আপনাদের উপহার দেওয়ার অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের পোষ্ট গুলো পড়লে অনলাইন আয়ের জন্য বেশি কষ্ট করতে হবে না।
ধন্যবাদ……..

Leave a Comment